চট্টগ্রামে পাঁচ কমিশনারের আমলেই দেহরক্ষী কনস্টেবল আজহার উদ্দিন, সিএমপিতে বহাল থাকার নেপথ্যে কী?
আওয়ামী লীগ থেকে অন্তর্বর্তী সরকার, এরপর বিএনপি সরকারের আমল—কমিশনার বদলালেও বদলায়নি আজহারের অবস্থান; পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠছে চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী আজহার উদ্দিন এর বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) কমিশনার পরিবর্তন হলেও বদলায়নি কনস্টেবল আজহার উদ্দিনের দায়িত্ব। ২০২১ সাল থেকে একের পর এক কমিশনারের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার পেরিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়েও গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে বহাল রয়েছেন আজহার উদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর ও ২০২২ সালে কৃষ্ণপদ রায়ের সময় দায়িত্ব পালন করেন আজহার উদ্দিন। ২০২৪ সালে জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় সাবেক কমিশনার সাইফুল ইসলামের সঙ্গেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কমিশনার হাসিব আজিজের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পান আজহার।
তবে সিএমপি সূত্রে জানা যায়, হাসিব আজিজের দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য আদান-প্রদান ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তাকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠনের পর সিএমপির কমিশনার হিসেবে হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী দায়িত্ব গ্রহণ করলে আবারও তার দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ পান আজহার উদ্দিন।
সিএমপির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে আবারো হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে আজহার উদ্দিন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সিএমপির বেশিরভাগ ওসি ,এস আই থেকে কমিশনারের নাম বিক্রি করে মাসিক মাসোয়ারা, পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি বাণিজ্যের তদবীরের অভিযোগ রয়েছে।
বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বিভিন্ন কমিশনার এর দেহরক্ষী থাকাকালীন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মীদের সাথে। সেই সুবাদে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আজহার উদ্দিনের যোগাযোগ রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সরকারের আমলে কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর দেহরক্ষীর দায়িত্বে থাকার সুযোগে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে সিএমপির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কমিশনারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে তাঁর মতো বিতর্কিত একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিয়োগ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন নগরবাসী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কনস্টেবল আজহার উদ্দিন সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।